বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ asiareport24.com
বিজ্ঞাপন পুরোনো বিজ্ঞাপন #15
সংবাদ শিরোনাম

হিটস্ট্রোকসহ বাড়ছে গরমের রোগবালাই

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৩, ৯:০৪ অপরাহ্ন আপডেট: ৪ মে ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ন
হিটস্ট্রোকসহ বাড়ছে গরমের রোগবালাই

নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের সামনের দিকটায় ৩ বছর বয়সি মেয়ে কুলে নিয়ে বসেছিলেন তিনি। গাড়ি কিছু দূর এগুতেই বমি শুরু হয় মিমের। সেই সঙ্গে কান্না। পানি হাতে নিয়ে মেয়ের মাথা ও মুখ মুছিয়ে দিয়ে মেয়েকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন সাবিনা। বাসের অন্য যাত্রীদের পরামর্শে সাবিনাকে বাসের পাখার নিচে একটি সিটের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে বাড্ডা থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে গতকাল মৌচাক মার্কেটে এসেছিলেন রুবি বেগম (৪৫)। কেনাকাটা শেষে বেলা আড়াইটা মার্কেট থেকে বের হয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তারা। এক সময় জ্ঞান হারিয়ে রাস্তায় পড়ে যান রুবি। হাতের ব্যাগ পাশে রেখে রুবিকে ধরে রাস্তায়ই বসে পড়েন সঙ্গে থাকা ছোট বোন। একটু পরেই রুবিকে ঘিরে লোকজন জড়ো হয়। পাশের দোকান থেকে পানি নিয়ে চোখে মুখে ছিটিয়ে দেয়ার কিছুক্ষণ পরই জ্ঞান ফিরে রুবির।

গত কয়েকদিনের প্রচণ্ড গরমে মিম ও রুবির মতো অনেকেই হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দেশে গত কয়েকদিন ধরে তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। আবহাওয়া অফিস বলছে তাপমাত্রা বাড়ার এ প্রবণতা আরো এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, চৈত্রের এই সময়ে বাতাসে যে পরিমাণে আর্দ্রতা থাকে গত কয়েক দিন ধরে এর চেয়ে আর্দ্রতা অনেক কম রয়েছে। যে কারণে গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকে। আর তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে হলে শীতল। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে মানুষের শরীরের সহ্যসীমার মধ্যে থাকে। তাপমাত্রা এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ এর চেয়ে বেশি হলে মানুষ তা সহ্য করতে পারে না। তখন শরীর জ্বালাপোড়া করে, নানারকম অস্বস্তি ও সমস্যা দেখা যায়।

প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. খান আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রচণ্ড গরমে সাধারণত অতিরিক্ত ঘামের কারণে মানুষের শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ে। আর এই পানিশূন্যতার কারণে দ্রুত দুর্বল হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে বদহজম ও পেট খারাপ এবং পানি-বাহিত নানা ধরনের রোগ বালাইও হতে পারে। মাথা ঘোরা, বমিভাব কারো ক্ষেত্রে বমিও হতে পারে।

তাপমাত্রা বাড়ায় অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন হিটস্ট্রোকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে রক্ত। সাধারণত কোনো কারণে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে রক্তনালি প্রসারিত হয়ে যায়। কিন্তু প্রচণ্ড গরমের কারণে অনেক সময়ই তাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হিটস্ট্রোক প্রসঙ্গে প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী ভোরের কাগজকে বলেন, তাপমাত্রা বাড়লে হিটস্ট্রোকের সমস্যা হতে পারে। দেশে যে তাপপ্রবাহ চলছে এই সময় যে কেউ যে কোনো সময়ে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন।

তবে যাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কম যেমন বয়স্ক ও শিশু- তাদের হিটস্ট্রোকে আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি।
গরমে এধরনের অসুস্থতা সাধারণত একটু সতর্ক হলে এড়িয়ে চলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, বেশি করে পানি ও পানিজাতীয় খাবার খেতে হবে। এখন অনেকেই রোজ রাখছেন। ইফতারের পর পানি বেশি পান ও রসালো ফল খেতে হবে। সূর্যের আলো থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে। ঢিলে ঢালা আরামদায়ক সুতি কাপড়ের পোশাক পরিধান করতে হবে। তবে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, দুর্বলতা, মাথা ঘুরে পড়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।