মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ asiareport24.com
বিজ্ঞাপন পুরোনো বিজ্ঞাপন #15
সংবাদ শিরোনাম

টাকার লোভ সামলাতে পারিনি, ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদের স্বীকারোক্তি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ন
টাকার লোভ সামলাতে পারিনি, ‘সমন্বয়ক’ রিয়াদের স্বীকারোক্তি

সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহম্মেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পিবিআই। তদন্তে চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা আদায় এবং সেই অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার সত্যতা মিলেছে।

২০২৫ সালের ১৬ জুলাই রাতে শাম্মী আহম্মেদকে গ্রেপ্তারের কথা বলে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তার গুলশানের বাসায় যান রিয়াদ ও জানে আলম অপু।তল্লাশিতে তাকে না পেয়ে পুলিশ চলে যাওয়ার পর, ওই দুই ব্যক্তি পুনরায় পুলিশ ছাড়া বাসায় প্রবেশ করেন।

চার্জশিটে বলা হয়েছে, বাসার মালিক সিদ্দিক আবু জাফরকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। ভয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ১০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন।

এই টাকা গ্রহণের ভিডিও ফুটেজও পিবিআইয়ের হাতে রয়েছে।

২৬ জুলাই বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য আসামিরা পুনরায় ওই বাসায় গেলে, মালিকের অভিযোগে পুলিশ রিয়াদসহ পাঁচজনকে হাতেনাতে আটক করে। পরে ডিবির সহায়তায় পলাতক জানে আলম অপুকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রধান আসামি আবদুর রাজ্জাক রিয়াদ এবং আরেক আসামি জানে আলম অপু আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ আছে।

জবানবন্দিতে রিয়াদ বলেন, ‘আমি গরিবের ছেলে, টাকার লোভ সামলাতে পারিনি।’ টাকার লোভ সামলাতে না পেরে তিনি চাঁদা চেয়েছিলেন বলে জানান।

অপুর জবানবন্দি অনুযায়ী, আদায়কৃত ১০ লাখ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে অপু একটি নতুন মোটরসাইকেল কেনেন এবং কিছু টাকা দিয়ে ধারদেনা শোধ করেন।

তদন্তে উঠে এসেছে যে, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে আসামিরা নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে পুলিশের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন।

এরপর বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানি ও ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতেন তারা।

পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফিরোজ আহমেদ মুন্সী গত ১৫ অক্টোবর ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটিতে একজন আসামি শিশু হওয়ায় তার বিচার হবে শিশু আদালতে। আগামী ১০ নভেম্বর মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। বর্তমানে সব আসামি জামিনে রয়েছেন।