বাবা-মা হারানো তানভীর এইচএসসিতে শেরপুরে মানবিকে প্রথম, জেলায় চতুর্থ

ছোটবেলাতেই হারিয়েছেন বাবা-মা। মাথার ওপর ছিল না বাবা-মায়ের স্নেহের ছায়া। সেই শূন্যতা বুকে নিয়েই ফুফুর বাড়িতে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তানভীর হাসান তন্ময়। আজ সেই সংগ্রামের ফল মিলেছে।
এইচএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে ১ হাজার ১২৫ নম্বর পেয়ে শেরপুর উপজেলায় প্রথম এবং বগুড়া জেলায় চতুর্থ স্থান অর্জন করেছেন তিনি।
তিনি শেরপুরের প্রোগ্রেসিভ স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী। শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের শাকদহ গ্রামে ফুফুর বাড়িতে থেকেই বেড়ে উঠেছেন তানভীর। অভাব-অনটন আর একাকিত্বের মধ্য দিয়ে পথ চলতে হলেও পড়াশোনা থেকে মুখ ফেরাননি। এ সাফল্যের জন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
সাফল্যের পেছনে কাদের অবদান সবচেয়ে বেশি, জানতে চাইলে তানভীর বলেন, এই ফলাফলের জন্য আমার ফুফু ও ফুপা এবং শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। তাঁরা আমাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেছেন। এগুলো ছিল অসাধারণ।
প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এবার কলেজটি থেকে মানবিক বিভাগে ৭১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৫৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৮৩ দশমিক ১০ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন চারজন। এ ছাড়া এ গ্রেড পেয়েছেন ৪১ জন এবং এ মাইনাস ১৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ১২ জন।
এবার সারা দেশে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বিপর্যয় দেখা গেলেও প্রোগ্রেসিভ স্কুল এন্ড কলেজের মানবিক বিভাগের ফল তুলনামূলক ভালো হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান শাহীন এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আমরা আরও ভালো করার চেষ্টা করব।
এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদুজ্জামান হিমু বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাশে দাঁড়ানো আশ্বাস দিয়েছেন।

