শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ asiareport24.com
বিজ্ঞাপন পুরোনো বিজ্ঞাপন #15
সংবাদ শিরোনাম

তালাক হয়েছে, বিষয়টি পরিবার জানত: গোলাম মাওলা রনি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ন
তালাক হয়েছে, বিষয়টি পরিবার জানত: গোলাম মাওলা রনি

ফারজানা আফরোজের জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার খবরকে কেন্দ্র করে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। তাঁর দাবি, ফারজানা আফরোজের সঙ্গে তাঁর কোনো বিয়ে হয়নি। তবে ওই নারী নিজেকে স্ত্রী দাবি করায় বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করেছেন এবং কথিত কাবিননামা অনুযায়ী তালাক কার্যকর করেছেন।

শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা জানান রনি। তিনি দাবি করেন, পুরো বিষয়টি তাঁর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনেরা শুরু থেকেই জানতেন।

ফেসবুক পোস্টে রনি জানান, একপর্যায়ে ফারজানা আফরোজ তাঁর অফিসে গিয়ে নিজেকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। এ সময় তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশ ডাকেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বিয়ের প্রমাণ চাওয়া হলে ওই নারী কাগজপত্র থাকার কথা বললেও তা দেখাতে পারেননি বলে দাবি করেন রনি।

পরে ওই নারী তাঁর ধানমন্ডির বাসায় গেলে তিনি শাহবাগ থানায় অভিযোগ করেন। রনির ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে যায় এবং সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কথিত কাবিননামার একটি কপি সংগ্রহ করা হয়।

রনি বলেন, আইনজীবীদের পরামর্শে দীর্ঘ আইনি লড়াই এড়াতে কাবিননামায় উল্লেখিত শর্ত অনুযায়ী তালাকের নোটিশ পাঠান এবং ১০ লাখ টাকা দেনমোহর পরিশোধ করেন। পাশাপাশি পুরো ঘটনা উল্লেখ করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তাঁর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ওই নারীর পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করে সামাজিক সম্মানকে পুঁজি করে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। তবে তিনি এসব দাবির কাছে নতি স্বীকার করেননি। ওই নারীর সন্তানদের কথা বিবেচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে আলাদাভাবে আদালতে মামলা করেননি বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন রনি।

পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ফারজানা আফরোজ ও ইউটিউবার ইলিয়াস একটি ভিডিও তৈরি করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন। পাশাপাশি বনি আমিন নামের আরেক ইউটিউবারকে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

রনির দাবি, আইন অনুযায়ী তালাক কার্যকর ও নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি দাবিকৃত অর্থ পরিশোধের পর বিষয়টি নিয়ে অপর পক্ষের তৎপরতা কমে যায়।

এনসিপির নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই সংসদ সদস্য। তাঁর ভাষ্য, এতদিন পর এনসিপির নেতারা কেন ফারজানা আফরোজের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং তাঁকে সামনে রেখে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরিকল্পনা করছেন, তা তাঁর বোধগম্য নয়।

ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে শাহবাগ থানায় করা অভিযোগের একটি ছবি যুক্ত করেন রনি। তিনি বলেন, অতীতে বিভিন্ন সিন্ডিকেট কীভাবে তাঁর মতো মানুষকে জিম্মি করার চেষ্টা করত, তা জানতে চাইলে ওই অভিযোগপত্র পড়া যেতে পারে।

এর আগে বৃহস্পতিবার কয়েকটি গণমাধ্যমে ফারজানা আফরোজকে গোলাম মাওলা রনির স্ত্রী উল্লেখ করে তাঁর এনসিপিতে যোগ দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে রনি ফেসবুকে একটি গণমাধ্যমের ফটোকার্ড শেয়ার করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ফারজানা আফরোজ তাঁর স্ত্রী নন; তিনি সাতকানিয়ার জামায়াত নেতা হারুনের সাবেক স্ত্রী।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফারজানা আফরোজ এনসিপির নারী উইং ‘জাতীয় নারী শক্তি’র কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

তবে ফারজানা আফরোজের সঙ্গে সম্পর্ক, কথিত বিয়ের কাগজপত্র ও তালাকের বিষয়ে গোলাম মাওলা রনির দেওয়া বক্তব্যগুলো তাঁর নিজস্ব দাবি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।