শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ asiareport24.com
বিজ্ঞাপন পুরোনো বিজ্ঞাপন #15
সংবাদ শিরোনাম

বিএনপি সব বিপ্লবের সুফল নেয়, পরে আওয়ামী লীগ হতে চায়: হাসনাত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ন আপডেট: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৮:১৭ অপরাহ্ন
বিএনপি সব বিপ্লবের সুফল নেয়, পরে আওয়ামী লীগ হতে চায়: হাসনাত

দেশের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের সুফল বিএনপি ভোগ করে, অথচ পরে দলটি আওয়ামী লীগের মতো আচরণ করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। বিএনপিকে ‘ফেইলড আওয়ামী লীগ’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

হাসনাতের ভাষ্য, বিএনপির রাজনৈতিক ব্যর্থতার অন্যতম কারণ দলটির মধ্যে আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য ধারণ করার প্রবণতা। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তির আচরণে ‘হাসিনাপনা’ থাকলে তিনি যে দলেরই রাজনীতি করুন না কেন, শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের চরিত্র ধারণ করবেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

সভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন ও বিপ্লবে জনগণের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে যে অর্জন আসে, বিএনপি সেসবের সুবিধা নেয়। কিন্তু পরে দলটি আবার আওয়ামী লীগের মতো হতে চায়।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কেবল একটি দলের নাম নয়, এটি একটি রাজনৈতিক চরিত্র ও কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ। কারও গায়ে বিএনপি কিংবা এনসিপির পরিচয় থাকলেও তাঁর আচরণে আওয়ামী লীগের বৈশিষ্ট্য থাকলে তাঁকে সেই চরিত্রেরই অংশ হিসেবে দেখতে হবে।

হাসনাত আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে পথ দেখিয়েছে বিএনপি। ৯০ সালে, ৯৬ সালে এবং আবার ২০০৬ সালে পথ দেখিয়েছে। বিএনপি হচ্ছে একটা ফেইলড আওয়ামী লীগ, আর আওয়ামী লীগ হচ্ছে একটা সফল আওয়ামী লীগ।’

দুই দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের তুলনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রকল্প বিএনপিও বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগ যেসব কাজে সফল হয়েছে, বিএনপি সেসব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিএনপিও নির্বাচনব্যবস্থাকে কলুষিত করতে চেয়েছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগ তা করতে সফল হয়েছে।

বিএনপির রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির মধ্যে ইতিবাচক রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনে বারবার রক্তপাতের প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত বলেন, একটি জাতিকে অল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার রক্ত দিতে হতে পারে না। নব্বইয়ের প্রজন্ম যেমন আন্দোলনে রক্ত দিয়েছে, তেমনি বর্তমান প্রজন্মকেও দিতে হয়েছে। এভাবে প্রতিটি প্রজন্মকে রাজনৈতিক সংকট ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হলে রাষ্ট্র ও জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কঠিন।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, একটি দেশের মানুষকে আর কতবার রক্ত দিতে হবে? প্রতিটি প্রজন্ম কি নতুন করে আন্দোলন-সংগ্রামে জীবন উৎসর্গ করবে?

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পরিচয়ের সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে হাসনাত বলেন, একটি প্রজন্ম নিজের পরিচয় ও অবস্থান খুঁজতে খুঁজতেই শেষ হয়ে যায়। এরপর নতুন প্রজন্মের সামনে আবারও একই সংকট দেখা দেয়। এভাবে চলতে থাকলে বিশ্বপরিসরে নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতেই একের পর এক প্রজন্মের সময় পেরিয়ে যাবে।

তিনি মনে করেন, বারবার রক্তপাত ও রাজনৈতিক সংকটের পুনরাবৃত্তি না ঘটিয়ে দেশের মানুষের জন্য স্থিতিশীল রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।