শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ asiareport24.com
বিজ্ঞাপন পুরোনো বিজ্ঞাপন #15
সংবাদ শিরোনাম

২০২৭ সালের ছুটির তালিকা প্রকাশ, কোন মাসে কত দিন ছুটির সুযোগ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ন
২০২৭ সালের ছুটির তালিকা প্রকাশ, কোন মাসে কত দিন ছুটির সুযোগ?

নতুন বছর মানেই ছুটির পরিকল্পনা। ঈদ, পূজা কিংবা অন্যান্য ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবকে ঘিরে অনেকেই আগে থেকে সাজিয়ে রাখেন অবকাশযাপনের পরিকল্পনা। এরই মধ্যে ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তালিকা অনুযায়ী, সাধারণ ও নির্বাহী আদেশে ঘোষিত ছুটি মিলিয়ে আগামী বছর মোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে সাত দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। ফলে সাপ্তাহিক ছুটি বাদে কার্যকর সরকারি ছুটি থাকবে ২২ দিন।

এ ছাড়া ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। এ জন্য বছরের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে ঘোষিত ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত করেও ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৫ নভেম্বরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব ও পর্ব উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য সামাজিক উৎসব উপলক্ষেও ছুটি রাখা হয়েছে।

চলুন দেখে নেওয়া যাক, মাসভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটির তালিকা এবং কোন কোন সময়ে মিলতে পারে টানা অবকাশের সুযোগ।

জানুয়ারি

জানুয়ারি মাসে দুদিন ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে। ১ জানুয়ারি শুক্রবার ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা এবং ৬ জানুয়ারি বুধবার পবিত্র শবে মিরাজ উপলক্ষে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।

ফেব্রুয়ারি

ফেব্রুয়ারি মাসে তিন দিন ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি বুধবার ভস্ম বুধবার উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা এবং ১১ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সরস্বতী পূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ছুটি নিতে পারবেন। ১১ ফেব্রুয়ারি ছুটি নিলে পরের শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিন অবকাশ কাটানোর সুযোগ থাকবে।

এদিকে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মাঘী পূর্ণিমার সম্ভাব্য তারিখ ২০ ফেব্রুয়ারি শনিবার। দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে পড়েছে।

মার্চ

মার্চ মাসে সাত দিন ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে। ৬ মার্চ শনিবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শিবরাত্রি ব্রত। পবিত্র ঈদুল ফিতরের তৃতীয় দিন ১৩ মার্চ শনিবার মুসলিম চাকরিজীবীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। তবে দুটি দিনই সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে পড়েছে।

২২ মার্চ সোমবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দোলযাত্রা উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ২৫ মার্চ বৃহস্পতিবার পুণ্য বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ শুক্রবার পুণ্য শুক্রবার, ২৭ মার্চ শনিবার পুণ্য শনিবার এবং ২৮ মার্চ রোববার ইস্টার সানডে উপলক্ষে ছুটির সুযোগ রয়েছে।

এর মধ্যে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সাধারণ ছুটি। ফলে ২৫ মার্চ ও ২৮ মার্চ ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারলে সাপ্তাহিক ছুটি ও সাধারণ ছুটি মিলিয়ে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী চাকরিজীবীরা টানা চার দিন অবকাশ কাটাতে পারবেন।

এপ্রিল

এপ্রিল মাসে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কর্মচারীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে। ৪ এপ্রিল রোববার হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ছুটি নিতে পারবেন। এর আগের শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা তিন দিনের অবকাশের সুযোগ রয়েছে।

বৈসাবি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর অনুরূপ সামাজিক উৎসব উপলক্ষে ১২ ও ১৫ এপ্রিল ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর কর্মচারীরা। ১২ এপ্রিল সোমবার এবং ১৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। এ ছাড়া ১৩ এপ্রিল মঙ্গলবার চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়া দেশের অন্যত্র সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর কর্মচারীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে।

মে

মে মাসে মুসলিম ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে। ১৯ মে বুধবার বুদ্ধপূর্ণিমার আগের দিন এবং ২১ মে শুক্রবার বুদ্ধপূর্ণিমার পরদিন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৭ মে সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ঈদের চতুর্থ দিন ২১ মে শুক্রবার মুসলিম চাকরিজীবীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে পড়েছে।

জুন

জুন মাসে আলাদা কোনো ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়নি।

জুলাই

জুলাই মাসে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আষাঢ়ী পূর্ণিমার সম্ভাব্য তারিখ ১৮ জুলাই রোববার। এর আগের শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় এদিন ঐচ্ছিক ছুটি নিলে টানা তিন দিনের অবকাশ কাটানোর সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ২৮ জুলাই বুধবার পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বা উপলক্ষে মুসলিম চাকরিজীবীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।

আগস্ট

আগস্ট মাসে কোনো ঐচ্ছিক ছুটি নির্ধারণ করা হয়নি।

সেপ্টেম্বর

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৩ সেপ্টেম্বর সোমবার ফাতেহা-ই-ইয়াজদহম পালিত হতে পারে। এ উপলক্ষে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।

১৫ সেপ্টেম্বর বুধবার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মধু পূর্ণিমার সম্ভাব্য তারিখ। আর ৩০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহালয়া অনুষ্ঠিত হবে। মহালয়া উপলক্ষে ঐচ্ছিক ছুটি নিলে পরের শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিনের অবকাশ কাটানোর সুযোগ পাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

অক্টোবর

অক্টোবর মাসে সনাতন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য একাধিক ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজার সপ্তমী ও অষ্টমী উপলক্ষে ৭ ও ৮ অক্টোবর যথাক্রমে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ৯ অক্টোবর শনিবার মহানবমী উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে ছুটি এবং ১০ অক্টোবর রোববার বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাধারণ ছুটি রয়েছে। ফলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা চার দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ থাকছে।

১৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে। একই দিন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমার সম্ভাব্য তারিখ। এদিন ঐচ্ছিক ছুটি নিলে পরের শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে উভয় ধর্মের চাকরিজীবীরা টানা তিন দিনের অবকাশ কাটাতে পারবেন।

এ ছাড়া ২৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার শ্যামাপূজা উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐচ্ছিক ছুটি রয়েছে। পরের শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি হওয়ায় এ সময়ও টানা তিন দিনের অবকাশ কাটানোর সুযোগ থাকবে।

নভেম্বর

নভেম্বর মাসে কোনো ঐচ্ছিক ছুটি নির্ধারণ করা হয়নি।

ডিসেম্বর

২০২৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর শনিবার যিশুখ্রিষ্টের জন্মদিন বা বড়দিন। এ উপলক্ষে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ২৪ ডিসেম্বর শুক্রবার এবং ২৬ ডিসেম্বর রোববার ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগ রয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর ঐচ্ছিক ছুটি নিলে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা তিন দিনের অবকাশ কাটাতে পারবেন তারা।

এদিকে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২৬ ডিসেম্বর রোববার পবিত্র শবে মিরাজ পালিত হতে পারে। এ উপলক্ষে মুসলিম চাকরিজীবীরাও ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন। এর আগের শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় তারাও টানা তিন দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ পাবেন।

ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ার নিয়ম

তালিকায় একাধিক ঐচ্ছিক ছুটির দিন থাকলেও একজন সরকারি কর্মচারী নিজ ধর্ম অনুযায়ী বছরে সর্বোচ্চ তিন দিন এ ছুটি নিতে পারবেন। এ জন্য বছরের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন সাপেক্ষে সাধারণ ছুটি, নির্বাহী আদেশে ঘোষিত ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে যুক্ত করেও ঐচ্ছিক ছুটি ভোগ করা যাবে।