রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ asiareport24.com
বিজ্ঞাপন পুরোনো বিজ্ঞাপন #15
সংবাদ শিরোনাম

সড়ক দুর্ঘটনায় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন প্রায় ৩০০ পরিবার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ন
সড়ক দুর্ঘটনায় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন প্রায় ৩০০ পরিবার

সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এ সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০টি পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোববার সকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

সংস্থাটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮৬ জন। এ ছাড়া ১৫৯টি দুর্ঘটনায় পিতা ও সন্তান নিহত হয়েছেন। এতে প্রাণ গেছে ৩১৮ জনের।

অটোরিকশা দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ২১১টি, তিন সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা ১১৮টি, চার সদস্যের ৯২টি, পাঁচ সদস্যের ৫৩টি, ছয় সদস্যের ৩৮টি এবং সাত সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ১৩টি। সব মিলিয়ে ৫২৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৭২৮ জন।

মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৪৮টি, তিন সদস্যের ৪৬টি, চার সদস্যের ৩৯টি, পাঁচ সদস্যের ২৮টি, ছয় সদস্যের ২০টি, ১১ সদস্যের চারটি এবং ১৪ সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে একটি। এসব ঘটনায় মোট ৭০৮ জন নিহত হয়েছেন।

প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি, তিন সদস্যের ৩১টি, চার সদস্যের ২৪টি এবং পাঁচ সদস্যের ১৯টি। মোট ১০৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫২ জন।

অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১১টি, তিন সদস্যের ১৫টি, চার সদস্যের ৯টি, পাঁচ সদস্যের সাতটি এবং আট সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে তিনটি। মোট ৪৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৬২ জন।

অন্যদিকে, বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে ১৭টি, তিন সদস্যের নয়টি এবং চার সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা ছয়টি। মোট ৩২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৮৫ জনের। এ ছাড়া পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার কারণ

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে পরিবারসহ একসঙ্গে যাতায়াতের প্রবণতা বৃদ্ধি, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল, ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স এবং চালকদের অদক্ষতাকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া চালকদের বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানো, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, মোটরসাইকেলের বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাকেও দায়ী করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সাত দফা সুপারিশ

সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে সাতটি সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—

1. মোটরসাইকেল আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা।

2. ট্রাফিক আইন মেনে মোটরযান চালানো।

3. সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার ও সার্ভিস রোড নির্মাণ করা।

4. গ্রামীণ সড়ক থেকে মহাসড়কে সরাসরি সংযোগ বন্ধ করে নিরাপদ সড়ক নকশা তৈরি করা।

5. সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা।

6. সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

7. সড়ক ব্যবহারকারীদের সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।