ইউরোপে যাওয়ার পথে সেনেগালে নৌকাডুবি, ২১ জনের মৃত্যু

ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে স্পেনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মর্মান্তিক নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২১ অভিবাসনপ্রত্যাশী। এ ঘটনায় আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সেনেগালের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে লুমপুল এলাকার কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দেশটির কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে একজনকে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
সেনেগালের সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নৌকাটি লুমপুল উপকূলের কাছে দুর্ঘটনায় পড়ে। পরে তেবেনে ও পোটু সারাদাও এলাকার উপকূলে মরদেহগুলো পাওয়া যায়। নিহতদের অধিকাংশই দেশটির লেওনা ও থিয়েপ্পে এলাকার বাসিন্দা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাঁদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
নৌকাটিতে ঠিক কতজন ছিলেন, কী কারণে সেটি দুর্ঘটনায় পড়ে এবং কতজন এখনো নিখোঁজ—এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে একই পথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টার সময় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সেনেগালের রাজধানী ডাকারের কাছে ১৪২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে আটক করেছে দেশটির আধা সামরিক বাহিনী জেন্ডারমেরি। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। স্পেনে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে একটি নৌকায় করে তাঁরা সমুদ্রপথে যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার আটলান্টিক পথটি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের কাছে পরিচিত একটি রুট। সেনেগাল, গাম্বিয়া, মৌরিতানিয়া, পশ্চিম সাহারা ও মরক্কোর উপকূল থেকে প্রতিবছর বহু মানুষ এ পথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকা এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে।
সূত্র: রয়র্টাস

