শেষ হচ্ছে নেতানিয়াহু অধ্যায়: ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকোট

ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে অবশেষে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির চেয়ারম্যান গাদি আইজেনকোটকে নতুন জোট সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট।
রবিবার (৮ নভেম্বর) জেরুজালেমে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সরকার গঠনের ম্যান্ডেট তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া ইসরায়েলি পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা বিরোধী জোটের প্রধান আইজেনকোট—কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টি ও তার মিত্ররা পেয়েছে ৫৩টি আসন, অন্যদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। নির্বাচনে রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় এসেছে আরব-নেতৃত্বাধীন জোট।
নির্বাচন-উত্তর বিশ্লেষণে আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী করার পক্ষে সমর্থন জানান ৬৭ জন আইনপ্রণেতা, যেখানে নেতানিয়াহুর পক্ষে ছিলেন ৪৬ জন। ফলে সর্বাদিক আসনপ্রাপ্তির বাধ্যবাধকতা না থাকায়, একটি স্থিতিশীল প্রশাসন উপহার দিতে সমর্থ হিসেবে আইজেনকোটের ওপরই আস্থা রাখেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ।
আইনগত প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ:
প্রাথমিক সময়সীমা: ম্যান্ডেট পাওয়ার পর আইজেনকোট সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজন মনে করলে প্রেসিডেন্ট এ সময়সূচি অতিরিক্ত আরও ১৪ দিন বাড়াতে পারবেন।
বিকল্প প্রস্তাব বা দ্বিতীয় চেষ্টা: আইজেনকোট যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হন এবং তা প্রেসিডেন্টকে জানান অথবা পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে যান, তবে তিন দিনের মধ্যে প্রেসিডেন্ট পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন। সে ক্ষেত্রে তিনি অন্য কোনো নেসেট সদস্যকে সরকার গঠনের জন্য আরও ২৮ দিন সময় দিতে পারেন (যার মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ থাকবে না)।
বিশেষ ২১ দিনের সময়সীমা: দ্বিতীয় মনোনীত ব্যক্তিও ব্যর্থ হলে ২১ দিনের একটি বিশেষ সুযোগ তৈরি হবে, যেখানে অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতা যৌথভাবে স্বাক্ষর করে যেকোনো সংসদ সদস্যকে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করতে পারবেন।
পার্লামেন্ট ভঙ্গ ও পুনরায় নির্বাচন: সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে নেসেট আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে দেশে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার: নতুন সরকার গঠিত হয়ে আস্থা অর্জন না করা পর্যন্ত বর্তমান বিদায়ী সরকারই অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করবে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলি রাজনৈতিক ইতিহাসে কখনো একক কোনো দল পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সব সময় জোট সরকারই গড়ে উঠেছে। আইজেনকোটের দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটির দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটবে কি না, তা এখন সমঝোতা রাজনীতির ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: আল জাজিরা

