বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ asiareport24.com
বিজ্ঞাপন পুরোনো বিজ্ঞাপন #15
সংবাদ শিরোনাম

ডেঙ্গু হলে যা করবেন, যা করবেন না

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৩, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন আপডেট: ৪ মে ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ন
ডেঙ্গু হলে যা করবেন, যা করবেন না

রোগীর শরীরে গুরুতর উপসর্গগুলোর কোন একটি দেখা দিলে অতি অবশ্যই দ্রুত চিকিৎসঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত বা রোগীকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করানো প্রয়োজন। অন্যথায় রোগীর প্রাণসংকট হতে পারে।

কখন হাসপাতালে যেতে হয়
ডেঙ্গু হলে কী ধরনের চিকিৎসা নেবেন, বাসায় না হাসপাতালে থাকবেন- নির্ভর করে এর ধরন বা ক্যাটাগরির ওপর। ডেঙ্গু জ্বরের তিনটি ধরন বা ক্যাটাগরি আছে-‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’। প্রথম ক্যাটাগরির রোগীরা স্বাভাবিক থাকে। তাদের শুধু জ্বর থাকে। অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগী ‘এ’ ক্যাটাগরির। তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়াই যথেষ্ট।

এসময় ডেঙ্গু জ্বর বেড়ে যায়

‘বি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গু রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লাগতে পারে। কিছু লক্ষণ, যেমন পেটে ব্যথা, বমি, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, অন্তঃসত্ত্বা, জন্মগত সমস্যা, কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়াই ভালো। ‘সি’ ক্যাটাগরির ডেঙ্গু জ্বর সবচেয়ে খারাপ। এতে লিভার, কিডনি, মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউর প্রয়োজন হতে পারে।

বাড়িতে যা করবেন


    পরিপূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে।
    প্রচুর তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে। ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের জুস এবং খাবার স্যালাইন পান করুন একটু পরপর।
    ডেঙ্গু জ্বর হলে প্যারাসিটামল খাওয়া যাবে। স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন সর্বোচ্চ আটটি প্যারাসিটামল খেতে পারবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির যদি লিভার, হার্ট ও কিডনি- সংক্রান্ত জটিলতা থাকে, তাহলে প্যারাসিটামল সেবনের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
    ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে গায়ে ব্যথার জন্য অ্যাসপিরিন, ক্লোফেনাক, আইবুপ্রোফেন- জাতীয় ওষুধ খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গুর সময় এই জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করলে রক্তক্ষরণ হতে পারে।

যা করবেন না

    ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে প্লাটিলেট এখন আর মূল বিষয় নয়। প্লাটিলেট হিসাব নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
    প্লাটিলেট কাউন্ট ১০ হাজারের নিচে নামলে বা শরীরের কোনো জায়গা থেকে রক্তপাত হলে প্রয়োজন বোধে প্লাটিলেট বা ফ্রেশ রক্ত দেওয়া যেতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি খুবই কম দেখা যায়।
    অনেকে বলেন, পেঁপেপাতার জুস ইত্যাদি খেলে প্লাটিলেট বাড়ে। আসলে এসবের কোনো ভূমিকা নেই। জ্বর কমে যাওয়ার পর সংকটকাল পেরিয়ে গেলে আপনা থেকেই প্লাটিলেট বাড়তে শুরু করে।
   জ্বরের শেষের দিকে রক্তচাপ কমে যেতে পারে অথবা মাড়ি, নাক, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হতে পারে। এ রকম হলে প্রয়োজনে শিরাপথে স্যালাইন দেওয়া লাগতে পারে। এসব ক্ষেত্রে তাই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

ডেঙ্গুর উপসর্গ গুলো হলো-

উচ্চ জ্বর (40°C/104°F)
তীব্র মাথার যন্ত্রণা
চোখের পিছনে ব্যথার অনুভূতি
মাংসপেশি এবং অস্থি সন্ধি (bone) তে যন্ত্রণা
বমিভাব
মাথাঘোরা
গ্রন্থি ফুলে যাওয়া
ত্বকে বিভিন্ন স্থানে ফুসকুড়ি
প্রচণ্ড পেট ব্যথা
ক্রমাগত বমি হওয়া
মারি বা নাক থেকে রক্তপাত
প্রস্রাবে এবং মলের সাথে রক্তপাত
অনিয়ন্ত্রিত পায়খানা
ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ (যা ক্ষতের মতো দেখাতে পারে)
দ্রুত শ্বাস প্রশ্বাস
ক্লান্তি
বিরক্তি এবং অস্থিরতা