বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ asiareport24.com
বিজ্ঞাপন পুরোনো বিজ্ঞাপন #15
সংবাদ শিরোনাম

শিল্পপতি ছেলেসহ ৪ সন্তান প্রতিষ্ঠিত, শেষ বয়সে একাকী মায়ের নিথর মরদেহ উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ন আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ন
শিল্পপতি ছেলেসহ ৪ সন্তান প্রতিষ্ঠিত, শেষ বয়সে একাকী মায়ের নিথর মরদেহ উদ্ধার

শিল্পপতি ছেলেসহ চার সন্তান প্রতিষ্ঠিত, অথচ জীবনের শেষ সময়ে ভাড়া বাসায় একাই বসবাস করছিলেন ৬৫ বছর বয়সী তাহমিনা বেগম। সেই বাসা থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর পচাগলা মরদেহ, ঘর থেকে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে স্থানীয়রা তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।

গত রোববার দুপুরে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের নতুন হাট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

তাহমিনা বেগম দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি নতুন হাট এলাকার ওই বাসায় একা থাকতেন। তাঁর মৃত্যুর সঠিক সময় ও কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে মরদেহের অবস্থা দেখে পুলিশের ধারণা, শুক্রবার তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

স্বামীকে হারিয়ে সন্তানদের মানুষ করতে বিদেশে পাড়ি-
স্বজনদের বরাতে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে তাহমিনা বেগমের স্বামী মারা যান। এরপর চার সন্তানকে বড় করে তোলা ও তাদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কঠোর পরিশ্রম করেন তিনি। সন্তানদের মানুষ করার জন্য একপর্যায়ে স্বামীর বসতঘর বিক্রি করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে দীর্ঘদিন কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সন্তানদের লালনপালন ও প্রতিষ্ঠিত করেন।

তাহমিনার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। তাঁর বড় ছেলে সুমন হাওলাদার একজন শিল্পপতি। বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির একটি কারখানা রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া রাজধানীর উত্তরায় নিজের ছয়তলা ভবনে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন তিনি। ছোট ছেলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। দুই মেয়েরও প্রতিষ্ঠিত পাত্রের সঙ্গে বিয়ে হয়েছে বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।

তাহমিনা বেগমের ভাড়া বাসার মালিক আব্দুর বারেক জানান, প্রায় তিন মাস আগে তাঁর বড় ভাই তাহমিনাকে ওই বাসায় ভাড়া থাকার ব্যবস্থা করে দেন। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। 

আব্দুর বারেকের ভাষ্য, গত রোববার সকালে ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। পরে খোঁজ নিয়ে ঘরের ভেতরে তাহমিনার মরদেহ পাওয়া যায়। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

বাড়িওয়ালার অভিযোগ, ওই তিন মাসে তাহমিনার ছেলে-মেয়েদের কেউ একবারের জন্যও তাঁকে দেখতে আসেননি।

এ বিষয়ে তাহমিনা বেগমের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তাঁর বড় ছেলে সুমন হাওলাদারকে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, তাহমিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বৃদ্ধার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

চার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করতে জীবনের বড় একটি অংশ পরিশ্রম করে কাটানো তাহমিনা বেগমের শেষ জীবনের এই নিঃসঙ্গ পরিণতি স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত পরিস্থিতি এবং পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য জানা গেলে পুরো ঘটনা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।