প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ গেল স্প্যানিশ ফুটবলারের

স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব সিডি টেনেরিফের স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেল মারা গেছেন। ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলার সোমবার (২ নভেম্বর) এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে তার মৃত্যু হয়।
সোমবার টেনেরিফের মাঠ এস্তাদিও হেলিওদোরো রদ্রিগেজ লোপেজে ম্যাচের শেষ দিকে মাঝমাঠে বলের দখল নিতে গিয়ে আন্দোরার গোলরক্ষক হেসুস ওনোর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান দে মিগেল। এ সময় প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের হাঁটু বা শরীরের আঘাত তার বুকে লাগে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংঘর্ষের পর মাঠেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এই স্ট্রাইকার। দ্রুত চিকিৎসক দল মাঠে এসে তাকে জরুরি চিকিৎসা দেয়। এ সময় তার শ্বাসনালি সচল রাখতে ইনটিউবেশন করা হয়। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়ার সময় তার হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
প্রায় ২০ মিনিট ধরে কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) দেওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ ঘটনার পর ম্যাচের ১০৮ মিনিটে খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
দে মিগেলকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের সান্তা ক্রুজ শহরের ইউনিভার্সিতারিও নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে কান্দেলারিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শুরুতে টেনেরিফ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তার অবস্থা গুরুতর হলেও স্থিতিশীল রয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তার চিকিৎসা চলছিল।
তবে মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সিডি টেনেরিফ। ক্লাবের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গভীর শোক, বুকভরা কষ্ট এবং অবিশ্বাস নিয়ে জানাচ্ছি, ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ৮টায় (স্প্যানিশ সময়) হেসুস দে মিগেল আলামেদা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।’
বিবৃতিতে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ক্লাবটি আরও বলেছে, এই গভীর শোক লাঘব করার মতো কোনো সান্ত্বনার ভাষা তাদের জানা নেই। তারা দে মিগেলের পরিবার, স্বজন ও টেনেরিফের সমর্থকদের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছে।
২০১৫ সালে লেগানেস বি দলের হয়ে সিনিয়র ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন হেসুস দে মিগেল। পরবর্তী সময়ে স্পেনের আরও আটটি ক্লাবে খেলেছেন তিনি। গত বছর সিডি টেনেরিফে যোগ দেন এই স্ট্রাইকার। মাত্র ৩০ বছর বয়সে তার এমন মৃত্যুতে ফুটবল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

