ওমরাহ পালনে যাওয়ার আগে নামাজরত অবস্থায় তুর্কি ইমামের মৃত্যু

ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের মক্কায় যাওয়ার আগে তুরস্কের কোনিয়া বিমানবন্দরে নামাজরত অবস্থায় মারা গেছেন ৬৮ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত ইমাম। ইহরামের পোশাক পরে সহযাত্রীদের নিয়ে নামাজ পড়ানোর সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তুরস্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দুবাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুও (আনাদোলু এজেন্সি) ঘটনাটি সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
নিহত ব্যক্তির নাম আবদুল্লাহ ওজকান। তিনি তুরস্কের কোনিয়া প্রদেশের বেইশেহির জেলার বাসিন্দা এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত ইমাম। পাশাপাশি একটি হজ ও ওমরাহ ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন তিনি।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১৮০ জন ওমরাহযাত্রীর একটি দলের সঙ্গে মক্কায় যাওয়ার কথা ছিল ওজকানের। ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে শুক্রবার রাত ২টার দিকে তাঁরা কোনিয়া বিমানবন্দরে জড়ো হন।
সেখানে সহযাত্রীদের নিয়ে বিদায়ী নামাজের নেতৃত্ব দেন ওজকান। নামাজ শেষে তিনি ঈমানের ঘোষণা, হজ ও ওমরাহর সময় পাঠ করা তালবিয়া এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, শেষবার দরুদ পাঠের সময় হঠাৎ তাঁর কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে আসে। একপর্যায়ে তিনি সামনের দিকে পড়ে যান। এ সময় আশপাশের লোকজন দ্রুত তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেন।
বিমানবন্দরের চিকিৎসাকর্মীরা তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং তাঁর হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস সচল করার জন্য সিপিআর প্রয়োগ করেন। পরে জরুরি সেবার মাধ্যমে তাঁকে সেলচুক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ফ্যাকাল্টি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওজকান হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ওজকানের সঙ্গে প্রায় ১৫ বছর কাজ করেছেন সহকর্মী ইসমাইল গুমুস। তিনি জানান, ঘটনার আগে ওজকানের মধ্যে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মহানবী (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠের সময় ওজকানের কণ্ঠস্বর দুর্বল হয়ে আসে এবং তিনি পড়ে যান।
বেইশেহিরের মুফতি এনেস আকতাস ওজকানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের সেবা করে আসা একজন শ্রদ্ধাভাজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বেইশেহিরের চারশি মসজিদে জানাজা শেষে স্থানীয় বেইশেহির কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় পরিবারের সদস্য, ধর্মীয় কর্মকর্তাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

