শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ asiareport24.com
বিজ্ঞাপন পুরোনো বিজ্ঞাপন #15
সংবাদ শিরোনাম

হৃদয়ের ২৪২ রানে বাংলাদেশের ৩০ রানের লিড

অনলাইন ডেস্ক — সিলেট
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ন
হৃদয়ের ২৪২ রানে বাংলাদেশের ৩০ রানের লিড

তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে রেকর্ডের পর রেকর্ড। সিলেট টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে লিড এনে দিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তাঁর অপরাজিত ২৪২ রানের সুবাদে প্রথম ইনিংসে ৩০ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা। তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ৩৮৬ রান।

জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিং ৫ এবং জশুয়া ডি সিলভা ২ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেছেন।

দিনের শুরুতে ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। আগের দিন ২৯ রানে অপরাজিত থাকা তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে উইকেটে ছিলেন মুশফিকুর রহিম। দুজন মিলে শুরুতে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মুশফিক। জাস্টিন গ্রিভসের বলে নয়, স্পিনার ওয়ারিকানের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে আউট হন তিনি। এরপর ওয়ারিকানের ঘূর্ণিতে পরাস্ত হয়ে মাত্র ৮ রানেই সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস।

মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদও বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি। একপর্যায়ে বাংলাদেশের সামনে শতাধিক রানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে পাল্টা লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়। ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করে দলকে শুধু বিপদমুক্তই করেননি, গড়েছেন ইতিহাস।

টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড এখন হৃদয়ের দখলে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল মুশফিকুর রহিমের। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৯ রান করেছিলেন তিনি। হৃদয় সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে থেমেছেন ২৪২ রানে।

একই সঙ্গে টেস্টের এক দিনে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ রান করার কীর্তিও গড়েছেন হৃদয়। তৃতীয় দিনে একাই যোগ করেছেন ২১৩ রান। এর আগে ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এক দিনে ২১২ রান করেছিলেন সাকিব আল হাসান।

ছক্কা হাঁকানোর দিক থেকেও অনন্য কীর্তি গড়েছেন হৃদয়। তাঁর ২৪২ রানের ইনিংসে রয়েছে ১১টি ছক্কা। টেস্টের এক ইনিংসে এর চেয়ে বেশি ছক্কা মারার নজির রয়েছে মাত্র দুই ব্যাটারের—ওয়াসিম আকরাম ও যশস্বী জয়সোয়াল। দুজনেরই ছক্কার সংখ্যা ১২টি।

ছবি: সংগৃহীত

হৃদয়ের দুর্দান্ত ইনিংসে বড় ভূমিকা রেখেছে নিচের সারির ব্যাটারদের প্রতিরোধ। বিশেষ করে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে অষ্টম উইকেটে তাঁর ১১৭ রানের জুটি বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। তাইজুল ২২ রান করে ফিরলেও লড়াই অব্যাহত রাখেন হৃদয়।

পরে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে নবম উইকেটে ৮৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। ২৯ বলে ১২ রান করে তাসকিন আউট হলে বাংলাদেশের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। চোটের কারণে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে পারেননি সাদমান ইসলাম। ফলে ৯ উইকেট হারিয়েই ৩৮৬ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

৩৫৯ বলের অপরাজিত ইনিংসে ১১টি ছক্কার পাশাপাশি ২২টি চার মেরেছেন হৃদয়। তাঁর ব্যাটে ভর করেই প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে ৩০ রানের এগিয়ে থেকে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ।