মন্ত্রী হয়েও বদলায়নি পথচলা, নেতাকর্মীদের ছেড়ে ওঠেননি মঞ্চে

মন্ত্রী হয়েও বদলায়নি পথচলা, নেতাকর্মীদের ছেড়ে ওঠেননি মঞ্চে মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, ৮ নভেম্বর।।
রাজনীতিতে ক্ষমতা, পদ-পদবি আর প্রটোকলের আলাদা একটা বলয় থাকে। সময়ের সঙ্গে অনেক নেতার চারপাশে তৈরি হয় দূরত্বও। কিন্তু সেই দূরত্বের বাইরে গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে একাকার হওয়ার দৃশ্যই যেন নতুন করে আলোচনায় আনল খাদ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতাকে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচিতে রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ পর্যন্ত সাড়ে সাত কিলোমিটার পথ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পায়ে হেঁটেছেন তিনি। দীর্ঘ পথের এই যাত্রায় ছিল না আলাদা কোনো বহর কিংবা নেতাকর্মীদের থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা। বরং হাজারো মানুষের ভিড়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গেই হেঁটেছেন তিনি। কর্মসূচির শেষ পর্যায়েও তাদের ছেড়ে আলাদা করে মঞ্চে ওঠেননি। দীর্ঘ সময় কাটিয়েছেন কর্মীদের সঙ্গেই।
নেত্রীকে এতটা কাছে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের কাছে এই পথচলা কেবল একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নয়, বরং প্রিয় নেত্রীর দৃঢ়চেতা মনোবল, দলের প্রতি অনুগত থাকা এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে আত্মিক বন্ধনের এক অনন্য প্রকাশ। দীর্ঘ পথের সহযাত্রী হয়ে তিনি যেন কর্মীদের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততারই জানান দিয়েছেন।
এবারের এই দৃশ্য অবশ্য একেবারে নতুন নয়। এর আগে ২০২৪ সালেও জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে একইভাবে নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজপথে হেঁটেছিলেন আফরোজা খানম রিতা। সেবার মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে একই পথ পাড়ি দেন পায়ে হেঁটে। দুই বছর পর আবারও একই দিবসে দীর্ঘ পথের সহযাত্রী হলেন নেতাকর্মীদের।
দুই সময়ের দুই দৃশ্যের মধ্যে মিল খুঁজে পাচ্ছেন মানিকগঞ্জের দলীয় নেতাকর্মীরা। ২০২৪ সালে তিনি ছিলেন দলের নেত্রী, আর এবার রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন মন্ত্রী। দায়িত্ব ও অবস্থানের পরিবর্তন হলেও নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজপথে হাঁটার সেই চিত্রে দেখা গেছে ধারাবাহিকতা।
বিশেষ করে মঞ্চের আনুষ্ঠানিকতা থেকে দূরে থেকে কর্মীদের সঙ্গে সময় কাটানোর বিষয়টি আলাদা করে নজর কেড়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শীর্ষ নেতাদের অনেক সময় মঞ্চকেন্দ্রিক উপস্থিতিই বেশি চোখে পড়ে। সেখানে নেতাকর্মীদের সঙ্গে একই কাতারে থাকা এবং তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানো কর্মীদের কাছে বাড়তি গুরুত্ব বহন করে।
জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আ.ফ.ম. নূরতাজ আলম বাহার বলেন, 'কর্মীদের সঙ্গে একজন নেতার সম্পর্ক যে কতটা দৃঢ় ও আত্মিক হতে পারে, আজ তারই বহিঃপ্রকাশ দেখেছেন নেতাকর্মীরা। নেত্রী যেভাবে কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ পথ হেঁটেছেন এবং তাদের ছেড়ে আলাদা মঞ্চে না গিয়ে পাশে থেকেছেন, তা নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। এমন সম্পৃক্ততা নেতা-কর্মীর পারস্পরিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।'
২০২৪ সালে তিনি ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি, আর ২০২৬ সালে দেশের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী। সময়ের ব্যবধানে বদলেছে তাঁর রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় অবস্থান, বেড়েছে দায়িত্বের পরিধি। কিন্তু নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজপথে পথচলার সেই দৃশ্যে দেখা যায়নি পরিবর্তন। মন্ত্রী হওয়ার পরও কর্মীদের সঙ্গে একই কাতারে হাঁটার এই মুহূর্ত মানিকগঞ্জের নেতাকর্মীদের কাছে শুধু স্মৃতি নয়, বরং নেতা-কর্মীর নিবিড় সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্পৃক্ততার এক প্রতীকী প্রকাশ।

