রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ asiareport24.com
বিজ্ঞাপন পুরোনো বিজ্ঞাপন #15
সংবাদ শিরোনাম

মগড়া নদী খননের নামে হয়রানি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ন আপডেট: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ন
মগড়া নদী খননের নামে হয়রানি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন

নেত্রকোনায় মগড়া নদী উদ্ধার ও খনন প্রকল্পের নামে নদীতীরের বৈধ জমির মালিকদের হয়রানি, উচ্ছেদের হুমকি এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তুলে প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং আইন মেনে নদীর সীমানা নির্ধারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তাঁরা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সহায়তায় একটি প্রভাবশালী মহল নদী উদ্ধারের নামে শুধু সিএস (CS) নকশা অনুসরণ করে জমি পরিমাপের উদ্যোগ নিয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট জমির মালিকেরা বিআরএস (BRS) রেকর্ড অনুযায়ী জমি কিনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস ও ব্যবসা করে আসছেন।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২০২৫ সালের মে মাসে কোনো নোটিশ ছাড়াই নদীতীরবর্তী বসতবাড়ি ও দোকানপাটে প্রবেশ করে সিএস নকশা অনুযায়ী পরিমাপের চেষ্টা করা হয়। এর প্রতিবাদে ভুক্তভোগীরা ২২ মে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার কাছে গণস্বাক্ষরসংবলিত আবেদন পাঠান।

বক্তারা জানান, মগড়া নদীর সীমানা নির্ধারণ নিয়ে হাইকোর্টে ২০২৫ সালে দায়ের করা রিট পিটিশন নম্বর ৫১৬১ বিচারাধীন রয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) দায়ের করা ওই রিটে সিএস, আরএস নকশা ও নদীর আদি প্রবাহ অনুসারে সীমানা নির্ধারণের প্রতিকার চাওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আদালতের নির্দেশনা ও প্রচলিত আইন অনুসরণ না করে শুধু সিএস নকশার ভিত্তিতে জমি পরিমাপ ও উচ্ছেদের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নেত্রকোনায় মগড়া নদীর প্রায় ১১৬ কিলোমিটার অংশের মধ্যে মাত্র ৪১ কিলোমিটার খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উজান ও ভাটির অংশ বাদ দিয়ে মাঝখানের নদী খনন করলে অল্প সময়ের মধ্যেই পলি জমে আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। এতে সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয়ের সুফল পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।

তাঁদের দাবি, নদীতীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণের কথা বলা হলেও বাস্তবে মাত্র ৮০০ মিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া শহরের ভেতরে দেড় থেকে দুই মিটার গভীর খনন করা হলে সাতপাই, মোক্তারপাড়া, জয়নগর, কাটলী ও আরামবাগ এলাকার নদীতীরবর্তী স্থাপনা ও জনবসতি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তাঁরা।

বক্তারা বলেন, নদী উদ্ধার ও খননের নামে কোনো নাগরিকের বৈধ সম্পত্তি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়, নকশা, খননের পরিধি ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া জনসমক্ষে প্রকাশ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ইমন , মো: নাজমুল শাহাদাৎ নাজু ও কামাল হোসেন খান ।